এই সময় জীবন যাপন ডেস্ক: ওজন বাড়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ চিনি। তাই ওজন কমাতে হলে সবার আগে খাদ্য তালিকা থেকে চিনি ছেঁটে ফেলতে নির্দেশ দেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু জানেন কি, মিষ্টি খাওয়ার নেশা এমনই তীব্র হয় যে ইচ্ছে থাকলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা অত্যন্ত কঠিন। তাই চিনির পরিবর্তে খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনতে আর কী ব্যবহার করা যেতে পারে, তাই নিয়েই আদ আলোচনা করব আমরা। চিনির আগে আমাদের দেশে এবং গুড়ই খাবারে মিষ্টি স্বাদ আনতে ব্যবহার করা হত। কিন্তু ওজন কমাতে চাইলে এই দুটি কতটা খাবেন, তার পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হবে। না হলে কোনও ভাবেই আপনার ওজন কমবে না। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে খেলে মধু এবং থেকেও ওজন বাড়বে এবং অন্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেক ট্র্যাডিশনাল ভারতীয় মিষ্টি গুড় দিয়ে তৈরি হয়। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই সাদা চিনের বদলে গুড়ের পাউডার ব্যবহার করা শুরু করেছেন। গুড়ের মধ্যে আছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি১, বি৬ এবং ভিটামিন সি। তার সঙ্গে গুড়ের মধ্যে প্রচুর ফাইবার আছে, যা আমাদের শরীর থেকে টক্সিন দূর করে এবং হাজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ অনুসারে প্রতিদিন সকালে এক কাপ গরম জলে একটু গুড় মিশিয়ে খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। অনেকে ভালো হজমের জন্য খাওয়ার পর একটু গুড় খাওয়ার পরামর্শ দেন। গুড় আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা ফেনোলিক কম্পাউন্ড আমাদের অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এখন কথা হচ্ছে চিনির তুলনায় গুড় খাওয়া শরীরের পক্ষে কতটা উপকারী। গুড়ের মিষ্টি স্বাদ চিনির তুলনায় একটু কম তাই স্বাভাবিক ভাবেই চিনের থেকে বেশি গুড় খাওয়া হয়ে যায়। ধরা যাক, কেউ এক কাপে চায়ে এক চামচ চিনি খান, কিন্তু সেই একই মিষ্টি স্বাদ পেতে তাঁকে এক কাপ চায়ে দু চামচ গুড় পাউডার মেশাতে হচ্ছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে যাচ্ছে ক্যালোরি ইনটেক। বেশি পরিমাণে গুড় খেলে তা ডায়াবিটিসের রোগীদের জন্য অপকারী। গুড়ের পর আসি মধুর প্রসঙ্গে। প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে খাবারে মিষ্টতা আনতে আরও স্বাস্থ্যকর দ্রব্য হল মধু। যেখানে চিনিতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজের পরিমাণ থাকে ৫০-৫০ ভাগে। সেখানে মধুতে গ্লুকোজ থাকে মাত্র ৩০ শতাংশ, আর মাত্র ৪০ শতাংশ থাকে ফ্রুকটোজ। মধুও আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। মধুর মধ্যে নানা প্রয়োজনীয় মিনারেল, অ্যামিনো অ্যাসিড, নিউট্রিয়েন্ট এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। গরম জলে মধু মিশিয়ে খেলে তা শরীরের ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। তবে গুড়ের মতো মধুও পরিমাণ বুঝে খেতে হবে। না হলে ক্যালোরি ইনটেক বেশি হয়ে গিয়ে ওজন কমার বদলে বেড়ে যেতে পারে। এক চামচ মধুতে কিন্তু এক চামচ চিনির সমান ক্যালোরি থাকে। তবে যে কারণ মধু চিনির থেকে ভালো, তা হল এর অন্যান্য উপকারিতা। তাই চিনি পুরোপুরি বন্ধ করে গুড় এবং মধু খেতে পারেন। কিন্তু ইচ্ছেমতো যত খুশি কখনোই নয়। এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে।
from Lifestyle News in Bengali, লাইফস্টাইল খবর, Health Tips, Fashion Trends and Tips in Bangla https://ift.tt/3lmggJL
No comments:
Post a Comment