এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: ছোটরা কিন্তু বড়দের দেখেই শেখে। এছাড়াও বাড়ির সংস্কৃতির প্রভাবও পড়ে একটা বাচ্চার বেড়ে ওঠার পেছনে। দুটো মানুষ যখন এক সঙ্গে দিনযাপন করছেন, তখন তাদের মধ্যে মতের অমিল বা ঝগড়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক। সবসময় যে সবটা ভালো হবে এমন নয়। আর ব্যক্তিগত সংঘাত, শ্বশুরবাড়ি বনাম বাবার বাড়ি, শ্বশুর-শাশুড়ি, টাকাপয়সা সংক্রান্ত সমস্যা ইত্যাদি কারণে সংসার কখনো কখনো হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র। এই ঝগড়া অনেক সময় চলে যায় সীমারেখার বাইরেও। কিন্তু সন্তানের সামনে এই ঝগড়ায় দাড়ি টানা প্রয়োজন। কারণ, বাচ্চারাও কিন্তু চারাগাছের মতো, আপনি যেভাবে বড় করবেন সেই ভাবেই মানুষ হবে। মা-বাবার মধ্যে অশান্তি হলে তার ছাপ বাচ্চার মধ্যেও পড়ে। তার শৈশব একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই বাচ্চার সামনে বেশ কিছু বিষয় কঠোর ভাবে মেনে চলবেন। সন্তানের কাছে মা-বাবা উভয়েরই গুরুত্ব সমান। আর তাই খেয়াল রাখবেন আপনাদের হার-জিতের মাশুল যেন বাচ্চাকে গুনতে না হয়। বাবা-মায়ের দাম্পত্যে অশান্তি হলে বাচ্চাই চলে যায় ডিপ্রেশনে। বাবা-মায়ের রোজকার কলহ, চেঁচামেচি, সমালোচনা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ শিশুদের মনে নানারকম প্রভাব ফেলে। তারা অকারণ জেদ করতে থাকে। অনেকসময় অল্পতেই রেগে যায়। চিত্কার করে কথা বলে, কখনো খুব সহজে ভয় পেয়ে যায়। বাচ্চার আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় না। সেই সঙ্গে বাড়ে উত্কণ্ঠা। স্কুলের পরিবেশেও মানিয়ে নিতে অনেক সময় তাদের অসুবিধা হয়। বাবা-মায়ের সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে, শিশুরা ভীষণভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। খুব অসহায় মনে করে নিজেদের। ঝগড়া দেখে দেখে ক্লান্ত শিশুটি বুঝতেও পারে না, সে কার পক্ষ নেবে। এসব কারণে ছোট থেকেই সে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকে। এতে করে ভবিষ্যতেও তার সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হতে পারে। শিশুরা তার ব্যবহারের প্রথম পাঠ পায় বাবা-মায়ের কাছ থেকেই। পরস্পরের প্রতি অশ্রদ্ধা, অন্যের মতকে গুরুত্ব না দেওয়া, এসব দেখে দেখে যখন সে বড় হয়ে ওঠে তখন ভবিষ্যতে তার ব্যক্তিগত জীবনের আচরণেও সেটার ছাপ থাকে। আর এই তিক্ততা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। আর তাই... হতে পারে আপনাদের মধ্যে মতের অনেক অমিল রয়েছে, কিন্তু ঝগড়া হলে যতোই রাগ হোক না কেন, সন্তানের মুখ চেয়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। অন্যজনের কাছ থেকে সংযত হওয়ার আশা না করে, আগে নিজে শান্ত হন। একজন শান্ত থাকলে, দেখবেন ঝগড়া বন্ধ হয়ে যাবে। কিংবা প্রয়োজনে নিজেদের ঝামেলা সন্তানের আড়ালে অন্য কোথাও বসে মিটিয়ে ফেলুন। কিন্তু কখনই সন্তানকে বাইরে রেখে দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করবেন না। বাবা-মায়ের একজন যদি অন্যমনস্ক ভাবেও কোনো একজন সম্পর্কে খারাপ কিছু শেখান, তাহলেও তা সন্তানের আত্মসম্মানবোধ গড়ে উঠতে সমস্যা হবে। কাজের চাপ, পরস্পরকে সময় না দেওয়া বা বোঝাপড়ার অভাব ইত্যাদি কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে কথাবার্তা কম হয়। আর এর কারণে দুজনের ভেতর অশান্তিও বাড়তে থাকে। তাই নিজেদের সম্পর্ক ভালো রাখতে পরস্পরকে সময় দিন। এমন কিছু করবেন না, যাতে সন্তান আপনাদের থেকে দূরে চলে যায়। সন্তানের বেড়ে উঠতে দুজনেরই প্রয়োজন। সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক যাতে বজায় থাকে সেদিকে দেখভালের দায়িত্ব আপনারই। এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে।
from Lifestyle News in Bengali, লাইফস্টাইল খবর, Health Tips, Fashion Trends and Tips in Bangla https://ift.tt/3p6zEgF
No comments:
Post a Comment