আজ পাতে পড়বে ১৪ শাক! জেনে নিন শাকের উপকারিতা - New 24

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

13 Nov 2020

আজ পাতে পড়বে ১৪ শাক! জেনে নিন শাকের উপকারিতা

https://ift.tt/32Fsqqk
এই সময় জীবনযাপন ডেস্ক: দীপাবলির আগের দিন বাঙালি বাড়িতে নিয়ম রয়েছে ১৪ প্রদীপ দেওয়ার আর ১৪ রকম শাক খাওয়ার। আজ ভূত চর্তুদশী। হিসেবমতে বাঙালির হ্যালোউইন। পূর্বপুরুষদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এদিন প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে। বিশ্বাস, এদিন তাঁরা মর্ত্যে নেমে আসেন। তাঁদের খুশি করতেই এদিন প্রদীপ জ্বালার নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও এদিন বাঙালি বাড়িতে খাওয়া হয় ১৪ রকম শাক। কথিত রয়েছে দানব রাজ বলি, একটা সময় স্বর্গ , মর্ত্য , পাতাল দখলে রাখতে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে। দেবতারাও তাদের রোষ নজরে আসে। এমন সময় বামনের ছদ্মবেশ ধারন করে রাক্ষসরাজ বলির কাছে বিষ্ণু তিন পা জমি ভিক্ষা চান। তাতে রাক্ষস রাজ রাজি হতেই, বিষ্ণু দুটি পায়ের একটি মর্ত্যে, একটি স্বর্গে রাখলেন। আর আরেকটি পা তাঁর নাভি থেকে বেরিয়ে এল। সেটি তিনি রাখলেন পাতালে। এমন ছলনার পর বলিক কিছুটা করুণা দেখিয়ে বিষ্ণু বলেন, প্রতি বছর রাক্ষস রাজ ও তার সাক্ষপাঙ্গের পুজো হবে পৃথিবীতে। আর সেই পুজোর তিথিই ভূত চতুর্দশী। পালংশাক, সজনে শাক, লাল শাক, মূলো শাক, মেথি শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুঁই, সরষে, ধনেপাতা, পাট, বেতোশাক, পঙ্খা, থানকুনি ইত্যাদি একসঙ্গে বড়ি-বাদাম দিয়ে ভেজে খাওয়া হয়। ১৪ রকম শাক কিন্তু এখনও বাজারে পাওয়া যায়। একসঙ্গে শাক কেটেই বিক্রি করা হয়। সুস্থ থাকতে শাকের কোনও বিকল্প নেই। সিজন চেঞ্জের সময় যেহেতু রোগ জ্বালা লেগেই থাকে তাই এদিন শাকখাওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়াও শাক খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, সেই সঙ্গে রোগপ্রতিরোধও করে। সর্ষে শাক : সর্ষে তেলের মতো সর্ষে শাকেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। শীতকালে এই শাকের ফলনও বেশ ভালো হয়। নিয়মিত এই শাক খেলে রক্তে উপকারী কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে। এছাড়া এই শাক দেহে ভিটামিন ডি তৈরি করতেও সাহায্য করে। পালং শাক : কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে পালং শাক। এই শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, সি, ই এবং আয়রন। আর তাই নিয়মিত পালং শাক খেলে রক্তে আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। কলমি শাক : হজমের সমস্যা বেশি থাকলে এই শাক না খাওয়াই ভালো। তবে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এই শাক। কলমি শাক বেশি করে রসুন, পেঁয়াজ দিয়ে ভেজে খেতে পারেন। এটি শরীরে জলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। খেতেও ভালো লাগে। পুঁই শাক : প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে পুঁই শাকে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া পুঁই শাকে রয়েছে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, খনিজ লোহা, ম্যাগনেশিয়ম ও জিংক। এসব উপাদান সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। হার্টের সমস্যা থাকলে এই শাক কিন্তু খাবেন না। লাল শাক : রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায় লাল শাক। অ্যানিমিয়া যাঁদের রয়েছে তাঁদের জন্য খুবই উপকারী লাল শাক। এছাড়া অ্যামিনো অ্যাসিড, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে লাল শাকে। এসব উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধ করে। গিমা শাক: জন্ডিস,জ্বর, লিভারের অসুখ, সর্দি-কফে উপকারে লাগে এই শাক। এই শাক স্বাদে একটু তেতো। খেলে মুখের অরুচি সারে। বেগুন আলু দিয়ে চচ্চড়ি, বেসন বা ডাল বাটা দিয়ে এই শাকের বড়া খেতে ভাল লাগে। পাট পাতা : পাট পাতার বড়া খেতে খুবই ভালো। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পাট শাক খুবই উপকারী। এছাড়াও পেটের রোগ, সর্দি, কাশি এসব সারায় পাটপাতা। আর সিজন চেঞ্জে খুবই উপকারী এই পাতা। মুলো শাক : মুলোর কচি পাতা বা কচি মুলোর শাক লঘুপাক অর্থাত্‍ সহজে হজম হয়। তেলে বা ঘিয়ে ভেজে মুলোর শাক খেলে বাতের ব্যথা সারে। কিন্তু ভাল করে সেদ্ধ না করে খেলে কফ ও পিত্তের সমস্যা বাড়ে। বেতো শাক : মুখের রুচি ফেরানো থেকে হজম শক্তি বাড়াতে খুবই উপকারে আসে বেতো শাক। এই শাক এখন খুব একটা বেশি পাওয়া যায় না। বেতো শাককে হিন্দিতে বলা হয় 'বাথুয়া'। টক দই বিট নুন, জিরে ভাজা, রাই, সর্ষের গুঁড়ো দিয়ে এই শাকের রায়তা খেতে অবাঙালিরা খুবই ভাল বাসেন। হিঞ্চে শাক: হিঞ্চে শাক রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই শাকের স্বাদ তেতো। এই শাক শরীর ঠাণ্ডা রাখে, রক্ত পরিষ্কার করে। এই শাক সেদ্ধ করে সর্ষের তেল নুন দিয়ে মেখে ভাতে খেতে ভাল লাগে। এছাড়াও হিঞ্চে শাকের বড়া হয়। যাঁদের অ্যানিমিয়া রয়েছে তাদের এই শাক খেতে বলা হয়।


from Lifestyle News in Bengali, লাইফস্টাইল খবর, Health Tips, Fashion Trends and Tips in Bangla https://ift.tt/32FOCke

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages