COVID রোগীদের নয়া আশঙ্কা 'ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস'! সতর্ক করছে গবেষণা - New 24

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Responsive Ads Here

6 Oct 2020

COVID রোগীদের নয়া আশঙ্কা 'ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস'! সতর্ক করছে গবেষণা

https://ift.tt/3jBfk3A
এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ এখন করোনার কবলে। লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই মারণ ভাইরাস। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। ভারতে ইতোমধ্যেই ৬৬ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে মোট আক্রান্তের সংখ্যা। মৃতের হার ১.৫৫ শতাংশ। সোমবার রাত পর্যন্ত ভারতে করোনায় মৃত্যু হয় ১ লক্ষ ৩ হাজার ৬২২ জনের। রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাক্টিসেস ইন থ্রম্বোসিস অ্যান্ড হিমোস্ট্যাসিস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা গিয়েছে কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়ছে অথবা ভেনাস থ্রম্বো এম্বলিজম (ভিটিই)-এর সম্ভাবনা। যারা হাসপাতালে ভরতি হয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা গিয়েছে। ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস বা ভেনাস থ্রম্বো এম্বলিজমটা কী আসলে? বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনওভাবে ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যায় সেই অবস্থাকে বলে ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস। আর সেই জমাট বাঁধা রক্ত ঢুকে পড়ছে কোভিড রোগীর ফুসফুসে। সাম্প্রতিক ওই গবেষণা করে জানা গিয়েছে হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস অথবা ভেনাস থ্রম্বো এম্বলিজম (ভিটিই) ঝুঁকি থেকে যায় ৫ থেকে ১১ শতাংশ। যারা কোভিডে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। সেই সমস্ত রোগীর ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে গুরুতর অসুস্থ রেগীর এই প্রবণতা ১৮ থেকে ২৮ শতাংশ। এমনটাই জানিয়েছে রিসার্চ অ্যান্ড প্র্যাক্টিসেস ইন থ্রম্বোসিস অ্যান্ড হিমোস্ট্যাসিস জার্নালে। ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে করেনায় আক্রান্ত হয়ে যাঁরা ভরতি হচ্ছেন, দেখা গিয়েছে, তাঁদের প্রতি ১০ জনে ৬ জনের বয়স ৪০ বছরের নীচে। অর্থাত্‍‌ শতাংশের হিসেবে, হাসপাতালে চিকিত্‍‌সাধীন করোনা আক্রান্তের ৬২.৫ শতাংশের বয়স চল্লিশ অনূর্ধ্ব। তবে শুধু ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিসই নয়, করোনা ভাইরাসের আক্রমণে নানা আনুষঙ্গিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে মানুষের শরীরে। এই নিয়ে বিগত কয়েক মাস ধরেই গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, কোভিড ১৯-এর সংক্রমণ হার্টের অপূরণীয় ক্ষতি করে দিচ্ছে। এমনকি যাঁদের ক্ষেত্রে মৃদু সংক্রমণ হচ্ছে, তাঁদের হার্টেও স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই নতুন করে হার্টের নানা সমস্যার শিকার হচ্ছেন। এর আগে একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা অন্তত ৬০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ‘মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্লেমেশন’ বা হৃদযন্ত্রের পেশিতে প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা ১০০ জন করোনা আক্রান্তকে পর্যবেক্ষণের পর এই তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। করোনা সংক্রমণ কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের একটা বড় অংশের (৭৮ শতাংশ) মধ্যে হার্টের নানা সমস্যা তৈরি হওয়া চিন্তা বাড়িয়েছে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞদের। ভিয়েনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সিহান আই জানিয়েছেন, মোট ৫ হাজার ৯৫১ জন কোভিড রোগীকে পরীক্ষা করে গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে যাঁরা হাসপাতালে ভরতি হয়েছিলেন তাঁদের ক্ষেত্রে ভিটিই-তে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১৪ শতাংশ। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে থাকা রোগীদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ২৩ শতাংশ। সম্প্রতি দিল্লিতে ২১ হাজার ৩৮৭ জনকে নিয়ে সমীক্ষা চালানো হয়। ওই সমীক্ষায় দিল্লির বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, করোনা থেকে সেরে ওঠার পর কিডনি, হার্ট বা ফুসফুসের নানা সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের বড় বড় শহরে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার ১৪-১৫ দিন পর অনেকেই সামান্য শ্বাসকষ্ট, তলপেটে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণার মতো সাধারণ সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসছেন। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এঁদের অনেকের মধ্যেই নতুন করে কিডনি, হার্ট বা ফুসফুসের নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে করোনা-পরবর্তি শারীরিক সমস্যাগুলি চিন্তা বাড়াচ্ছে বিজ্ঞানীদের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা বলছে রোগী করোনা আক্রমণ কাটিয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়ার মাসখানেক পরেও হৃদযন্ত্রে প্রদাহ এবং ক্ষত থেকে যাচ্ছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিডজয়ী রোগীদের রোগমুক্ত হওয়ার পরেও শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বুক ধড়ফড় হওয়া- এই সব হয়েই চলেছে। কারণ বিশ্লেষণে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর কার্ডিওভাস্কুলার বায়োলজির গবেষক চার্লস মুরি বলছেন, হার্টের পেশি-কোষ নতুন করে তৈরি হয় না, জন্মের সময় থেকে একই থাকে। তাই কোনও ভাবে এই কোষের ক্ষয়ক্ষতি হলে তা সারার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে, হার্টের যান্ত্রিক ক্ষমতা কমে যায়। এই সময় ডিজিটালের লাইফস্টাইল সংক্রান্ত সব আপডেট এখন টেলিগ্রামে।


from Lifestyle News in Bengali, লাইফস্টাইল খবর, Health Tips, Fashion Trends and Tips in Bangla https://ift.tt/33y856W

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages